মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
পাতা

প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব

 বিখ্যাত ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

এলাকার প্রকৃত বৈশিষ্ট্য ও ঐতিয্য ফুটে উঠে সেখানকার  কৃতী সমত্মানদের মাধ্যমে । এমন কয়েক জন সমজ সেবক মনীষী, লেখক, গুণীজন, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের একটি খন্ডিত পরিচয় তুলে ধরা হলো -

 

শেখ ফজলুল করিম সেলিমঃ  গোপালগঞ্জের সুযোগ্য সমত্মান শেখ ফজলুল করিম সেলিম । তাঁর পিতার নাম শেখ নুরুল হক। তিনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ভাগ্নে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অন্যতম প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী ও গোপালগঞ্জ নির্বাচনী এলাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য। তিনি গোপালগঞ্জের ঐ আসন হতে বর্তমান পর্যমত্ম  ৬ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

 

মথুরানাথ বোস  (১৮৪৩-১৯০১ খ্রীঃ)ঃ   খ্রীষ্টিয়ান ধর্ম প্রচার এবং সেন্ট মথুরানাথ গীর্জা ও মথুরানাথ ইনষ্টিটিউট এর প্রতিষ্ঠাতা । তার প্রতিষ্ঠিত মিশন স্কুলটি ১৯৫০ খ্রীষ্টাব্দে  জমি বর্খিত করে কায়েদে আযম মেমোরিয়াল কলেজ স্থাপিত হয় । ১৯৭২ সালে সরকারী কলেজ হিসেবে বঙ্গবন্ধু কলেজ নামকরণ করা হয় । বর্তমানে কলেজটি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে । গোপালগঞ্জ  শহরে শিক্ষা বিসত্মারে তাঁর যথেষ্ট অবদান রয়েছে । এ ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার একমাত্র সরকারী বালক এস এম মডেল স্কুলটি দুই সহোদর শীতানাথ ও মথুরানাথ (এস এম মডেল ) এর নামানুসারে রাখা হয়েছে ।

 

পৃথিশ চন্দ্র রায় চৌধূরী (১৮৭০-১৯২৮)ঃ  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলাধীন উলপুর গ্রামে পৃথিশ চন্দ্র রায় চৌধুরী জন্মগ্রহণ  করেন। পিতা- পূর্ণচন্দ্র রায় চৌধূরী। দীর্ঘকাল ফরিদপুর সেবা সমিতির সভাপতি ছিলেন । তিনি  ১৯০৫ সালে ইন্ডিয়ান ওয়ার্ল্ড নামে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। তাঁর রচিত উল্লেখ যোগ্য গ্রন্থসমূহ ডিউটিজ, কজেজ এন্ড রিমেডিজ, দি ম্যাপ অব ইন্ডিয়া, লাইফস এন্ড টাইম অব সি আর দাস।

 

বেগম মজিদুন্নেছা (রহঃ) ( ১৯১৪-১৯৯৫ )ঃ  বেগম মজিদুন্নেছা  (রহঃ) একজন বুযূর্গ মহিলা ছিলেন। তিনি ফুরফুরা শরীফের পীর হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রহঃ) এর অনুসারী ছিলেন। স্বামী মৃত দলিল উদ্দিন শেখ। তিনি আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের আশায় ৬৫ বছর একাগ্রচিত্তে এবাদতে নিয়োজিত থাকেন। তাঁর এবাদত বন্দিগী ও আধ্যাত্ম সাধনার কারণে  জাতি ধর্ম নির্বিশেষে বহু মানুষের নৈতিক উন্নতি ঘটে।  দুর্গাপুর ইউনিয়নের  খাটিয়াগড় গ্রামে তাঁকে কবর দেয়া হয়েছে ।

 

আবদুল হামিদ মুন্সী  ঃসদর উপজেলার হরিদাসপুর ইউনিয়নের আড়পাড়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মুন্সী বাড়ীর জমিদার ছিলেন। ঢাকা-খুলনা মহা সড়কের পার্শ্বে বিলরুট ক্যানেলের পশ্চিমপাড়ে অবস্থিত মিনার মসজিদ তাঁর কীর্তি বহন করছে। এছাড়াও আড়পাড়া হাইস্কুল এবং চন্দ্রদিঘলিয়া মাদ্রাসার অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তিনি ১৯৬৯ সালে ২১ জানুয়ারী মৃত্যুবরণ করেন।

 

শেখ মোশাররফ হোসেন (খান সাহেব ১৯০৪-১৯৯১ )ঃগোপালগঞ্জ সহরে ব্যাংকপাড়া নিবাসী শেখ মোশাররফ হোসেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ছিলেন । সমাজ সেবার জন্য তিনি খান সাহেব উপাধীতে ভূষিত হন।  ১৯৫৯ সালে ’ তমগাই কায়েদে আযম ’ খেতাবে ভূষিত হন । ১৯৬৫ সালে  এম এল এ নির্বাচিত হন। তিনি বঙ্গবন্ধুর চাচা এবং ১৯৭২ সালে গণ পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।

 

ডাঃ ফরিদ আহমদ (১৯১১-১৯৮৩)ঃ   ডাঃ ফরিদ আহমদ বৃটিশ ইন্ডিয়ান  আর্মিতে ক্যাপ্টেন পদে যোগদান করেন।  পরবর্তীতে ম্যানটেষ্টারে এম সি পি এস করেন। তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ্রগহণ  করেন। জেলা সদরের সাধারণ মানুষেদের দীর্ঘদিন চিকিৎসা সেবা দান করেন। গোপালগঞ্জ হাই স্কুলের অন্যতম প্রতিষ্ঠিাতা ছিলেন তিনি। তিনি একাধারে রাজনীতিবীদ, সদালাপী ডাক্তার, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। বর্তমানে ডাঃ ফরিদ মোমোরিয়াল তার স্মৃতি  বহন করছে ।

 

কবি আমির হোসেন খান (মৃত্যু ১৯৮৯ খ্রীঃ ) ঃগোপালগঞ্জ সদর উপজেলায়  উরফি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম  আফসার উদ্দিন খান। তিনি একজন কৃষি কর্মকর্তা ছিলেন। তার রচিত কাব্য গ্রন্থ ২টি। 

 

কবি কাসেম রেজা (১৯১৫-১৯ অক্টোবর ১৯৮৩)ঃ  সদর উপজেলায় আড়পাড়া গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার প্রকাশিত বইয়ের সংখ্যা ৫টি। (১) ধুপ  (২) বানের টানে (৩) ঘুন (৪) ভাঙ্গনের গান ও (৫) দেশ আমার মাটি আমার।

 

মোল্লা জালাল উদ্দিন (১ ফেব্রুয়ারী ১৯২৬-১৮ ডিসেমবর ১৯৭৯) ঃ   জালালাবাদ ইউনিয়নে বড়ফা গ্রামে তিনি জন্মগ্রহণ করেন । গোপালগঞ্জ মিশন স্কুল থেকে  প্রবেশিকা, রাজেন্দ্র কলেজ থেকে আই,এ করটিয়া সা’দত কলেজ থেকে  বি.এ  এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট বিজ্ঞানে এম.এ পাশ করেন। ১৯৫৩ সালে তিনি এল.এল.বি পাশ করেন এবং ঢাকা জজ কোর্টে আইন ব্যবসা শুরু করেন। আইন ব্যবসায় তিনি হাইকোর্টের  বিশিষ্ট আইনজীবি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন। ১৯৪৭ সালে  বঙ্গীয় মুসলিম লীগের সদস্য হন এবং ১৯৬৪-৭২ সাল পর্যমত্ম আওয়ামী লীগ কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৭২ সালে ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী নিযুক্ত হন । পরবর্তীতে বন, মৎস্য ও পশুসম্পদ এবং ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হন । গোপালগঞ্জ সদর হতে তিনি ৩(তিন) বার জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন।